লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত থেকে ৫ কিলোমিটার বা ৩.১১ মাইলের মধ্যে বসবাসকারী ইসরায়েলি বাসিন্দাদের অনতিবিলম্বে এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে হিজবুল্লাহর নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলে হিব্রু ভাষায় পোস্ট করা এক বার্তায় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং নিরপরাধ নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলা ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের প্রতিশোধ হিসেবেই এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ইসরায়েলি বাহিনীর উচ্ছেদ অভিযানের মুখে তারা চুপ করে বসে থাকবে না এবং এই ধরনের আগ্রাসন কোনোভাবেই বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
হিজবুল্লাহর এই কঠোর সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে নতুন করে বিমান হামলার তরঙ্গ শুরু করেছে। এর আগে ইসরায়েল ওই এলাকার প্রায় ৫ লাখ বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য জোরপূর্বক উচ্ছেদ আদেশ জারি করেছিল।
গত সোমবার থেকে সীমান্তে এই আন্তঃসীমান্ত যুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হিজবুল্লাহ, যা পরিস্থিতিকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বৈরুতের বিশাল জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
হিজবুল্লাহর সীমান্ত খালি করার নির্দেশের জবাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা তাদের সীমান্ত সংলগ্ন শহরগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেবে না। বরং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে লেবাননের ভেতরে আরও বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা এই আগাম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই সীমান্ত এলাকা এখন বিশ্বের অন্যতম উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো হিব্রু ভাষায় সরাসরি বেসামরিক নাগরিকদের হুমকি দেওয়া একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত এবং বৈরুত জুড়ে বর্তমানে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হিজবুল্লাহ তাদের বার্তায় জোর দিয়ে বলেছে যে, লেবাননের মাটিকে নিরাপদ করতে এবং ইসরায়েলি উচ্ছেদ অভিযানের মোকাবিলা করতে তারা সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলা এবং স্থল অভিযানের প্রস্তুতির ফলে হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তু হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল দুটি পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন একটি আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নেওয়ার উপক্রম হয়েছে। সীমান্তের উভয় পাশে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী কয়েক দিন এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত সংকটাপন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্য করুন