news editor
প্রকাশ : Apr 22, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

‘ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা ট্রাম্পের’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলা চালানোর জন্য কোড ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়— সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক ল্যারি জনসনের এমন এক বিস্ফোরক দাবিতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 

এই সপ্তাহে ‘জাজিং ফ্রিডম’ নামক একটি পডকাস্টে ল্যারি জনসন দাবি করেন, হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প পারমাণবিক হামলা চালানোর জেদ ধরলে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সরাসরি তার বিরোধিতা করেন। জনসনের ভাষ্যমতে, জেনারেল কেইন দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্টকে ‘না’ বলে দেন এবং সামরিক প্রধান হিসেবে নিজের বিশেষাধিকার প্রয়োগ করেন, যা নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড বাদানুবাদ হয়।

ল্যারি জনসনের এই দাবির সপক্ষে সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে বলা হয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল (শনিবার) জেনারেল কেইন ও পিট হেগসেথসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসে উপস্থিত হয়েছিলেন। পডকাস্টে একটি ভিডিও ফুটেজও দেখানো হয় যেখানে জেনারেল কেইনকে অত্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। 

তবে সাংবিধানিক ও সামরিক আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের কমান্ড বা আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা কারোরই নেই, তাই জেনারেল কেইন প্রযুক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ‘ব্লক’ করতে পারেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাসত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ও জেনারেলের মধ্যে যে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা এখন স্পষ্ট।

ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে দাবি করেছিলেন যে জেনারেল কেইন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে ‘সহজে জয়যোগ্য’ মনে করেন, কিন্তু আসলে কেইন সে সময় এমন কোনো পরামর্শ দেননি। 

এ ছাড়া ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানিয়েছে, সম্প্রতি ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বৈমানিকদের উদ্ধারের অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলছে, ট্রাম্প সে সময় এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে তিনি তার সহযোগীদের ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিৎকার করছিলেন। ফলে সামরিক কর্মকর্তারা তার হস্তক্ষেপ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেন যাতে উদ্ধার অভিযানে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

ট্রাম্পের বর্তমান মানসিক অবস্থা ও খামখেয়ালি আচরণ নিয়ে খোদ মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও পারমাণবিক হামলার চূড়ান্ত নির্দেশের বিষয়টি যাচাই করা কঠিন, তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধকালীন উত্তপ্ত পরিস্থিতির সঙ্গে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের এই দূরত্ব ভাইরাল হওয়া দাবিটিকে আরও জোরালো করে তুলেছে। 

জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কঠোর অবস্থান এবং প্রেসিডেন্টের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিশ্ব শান্তির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গণভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলা মানুষ কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না: আ

1

যুদ্ধের মধ্যেও প্রতিদিন ১৩৯ মিলিয়ন ডলার আয় করছে ইরান

2

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে: ত্রাণমন্ত্রী

3

ডিএমপির ৫ পরিদর্শককে বদলি

4

বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতির কারিগর বেগম খালেদা জিয়া: বিশেষ

5

বিদ্যুতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, দেউলিয়া পরিস্থিতি বলছেন ন

6

আজ স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী

7

দেশের নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ট্যাক্স বাড়াতে হবে: অর্থমন্

8

ধর্ষণ মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ক্রিকেটার তোফায়েল

9

প্রাথমিকভাবে ৯ উপজেলায় চালু হচ্ছে কৃষক কার্ড

10

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জ্বালানি সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

11

ওল্ড ট্রাফোর্ডে আমোরিম যুগের অবসান: ছাঁটাই হলেন ম্যান ইউ কোচ

12

যাত্রীসহ বাসের এক তৃতীয়াংশ ফেরির বাইরে, ছবি ভাইরাল

13

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক: বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আট

14

জব্দ করা জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র ফেরত না দিলে পাল্টা ব্যবস্থা নেব

15

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর

16

‘ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা ট্রাম্পের’

17

পৃথিবীর সঙ্গে ‘যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন’ চাঁদে যাওয়া আর্টেমিস-২ এর

18

পুতিন নিজেই ফোন করে হামলার খবর জানিয়েছেন: ট্রাম্প

19

জামায়াত জাতীয় সরকারে অংশ নেবে না, শক্তিশালী বিরোধী দল হবে: ত

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন