আজ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সপরিবারে বাংলাদেশে ফিরেছেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে |
আজ বেলা পৌনে ১২টায় (১১:৪০ মিনিটে) তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ড্রিমলাইনার 'আকাশবীণা' লন্ডনের হিথ্রো থেকে সিলেট হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমান।
বিমান থেকে নেমে তারেক রহমান জুতা খুলে খালি পায়ে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন এবং এক মুঠো মাটি হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর তাঁকে একটি বুলেটপ্রুফ বাসে করে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সড়কের দুপাশে লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে স্লোগান ও পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে স্বাগত জানান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবাইকে শান্ত থেকে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় পর তাঁর চিকিৎসাধীন মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যান।
২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার): জুমার নামাজ শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত এবং সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন।
২৭ ডিসেম্বর (শনিবার): নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যাবেন।
রয়টার্স, বিবিসি এবং আল জাজিরার মতো বড় বড় গণমাধ্যম তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি 'টার্নিং পয়েন্ট' হিসেবে উল্লেখ করেছে। অনেক সংবাদমাধ্যম তাঁকে 'বাংলাদেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী' হিসেবেও বর্ণনা করেছে।
মন্তব্য করুন