প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে তিনি এ তথ্য জানান।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু। আমরা বাণিজ্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। ভবিষ্যতে কী হবে সেই চিন্তায় বাণিজ্য বন্ধ রাখা যায় না। আমরা ব্যবসা করবো, সীমান্ত বাণিজ্য হবে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে। সেভাবেই আমাদের কথা হয়েছে। তার ভিত্তিতেই টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম সচল করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হবে এবং বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা উপকৃত হবেন।
তিনি আরও বলেন, বন্দর চালু হলে সেখানে কোনো রোহিঙ্গা শ্রমিক কাজ করতে পারবে না। বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের অবশ্যই স্থানীয় হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।
রাজিব আহসান উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন বন্দর বন্ধ থাকায় শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে তিনি বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম, আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন অগ্রগতি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিক নেতা আলী আজগর মাঝি বলেন, বন্দর বন্ধ থাকার কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে শতশত শ্রমিক কর্মহীন। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ধার-দেনা করে কোনোভাবে দিন পার করছি। যদি দ্রুত বন্দর চালু হয়, তাহলে আমরা আবার কাজ ফিরে পাব এবং পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবো।
টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ সিঅ্যান্ডএফ এসোসিয়েশন সাবেক সভাপতি ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাসেম বলেন, মিয়ানমারের দিক থেকে আরাকান আর্মির বাধার কারণে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মূলত তাদের বাধার কারণেই সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যায়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, আরাকান আর্মিকে টাকা না দিলে তারা কোনো মালবাহী জাহাজ চলাচল করতে দেয় না। বন্দর বন্ধ হওয়ার আগেও মিয়ানমার থেকে আসা মালবাহী জাহাজকে একাধিকবার আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরে নানা উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সেসব জাহাজ টেকনাফে আনতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধারাবাহিক এসব বাধার কারণে শেষ পর্যন্ত মিয়ানমারের সঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দরের বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। দ্রুত বন্দর কার্যক্রম ও সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হলে সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সোমবার দুপুরের দিকে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট সিনিয়র কর্মকর্তারা টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শনে আসেন।
তিনি জানান, পরিদর্শনকালে তারা বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা করেন। সভায় বন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মন্ত্রী সহ প্রতিনিধিদলটি টেকনাফ স্থলবন্দরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শন শেষে তারা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।