ঢাকা: বিশ্ব রাজনীতিতে যেন এক প্রলয়ংকরী দাবানল। গত ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে কারাকাসে মার্কিন ডেলটা ফোর্সের নাটকীয় অভিযান এবং ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের ঘটনা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। যে শক্তি প্রয়োগের নমুনা আমেরিকা দেখালো, তাকে বিশ্লেষকরা বলছেন 'বিশ্ব রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এক ভয়ংকর অগ্নিসংকেত'।
৩ জানুয়ারি ২০২৬; কারাকাসের রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে নামে মার্কিন ডেলটা ফোর্সের হেলিকপ্টারের গর্জন। ‘অপারেশন অ্যাবসোলুট রিজলভ’-এর অধীনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তাদের বাসভবন থেকে কার্যত তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। নার্কো-টেররিজমের অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাদের সরাসরি নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই অভিযান কেবল একটি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনের কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই 'শিকারে'র ইতিহাস নতুন নয়। বিশারদদের মতে, এটি একটি সুদীর্ঘ এবং অন্ধকার প্যাটার্নের অংশ:
১৯৮৯ (পানামা): 'অপারেশন জাস্ট কজ'-এর মাধ্যমে পানামার রাষ্ট্রপ্রধান ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে মাদক পাচারের অভিযোগে তুলে নিয়ে গিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।
২০০৩ (ইরাক): ইরাক যুদ্ধের বিভীষিকা আর মাটির গর্ত থেকে সাদ্দাম হুসেইনকে টেনে বের করার দৃশ্য বিশ্ব আজও ভোলেনি।
২০২২ (হন্ডুরাস): সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্ডেজকে এক্সট্রাডাইট করে নিউ ইয়র্কের আদালতে ৪৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে মার্কিন 'পার্ডন' বা ক্ষমা প্রদর্শন তাদের দ্বৈত নীতিকেই স্পষ্ট করে।
একটি পরাশক্তি যদি চাইলেই অন্য একটি সার্বভৌম দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানকে রাতের অন্ধকারে 'কিডন্যাপ' বা গ্রেফতার করতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সমালোচকরা বলছেন, এটি ন্যায়ের জয় নয়, বরং রাজনৈতিক শত্রুতার নামে শক্তির নগ্ন অপব্যবহার।
লাতিন আমেরিকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য—আমেরিকার এই ছায়া যুদ্ধ এবং হস্তক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর এই গ্রেফতার কোনো শেষ নয়, বরং এক নতুন অস্থির সময়ের শুরু মাত্র।
মন্তব্য করুন