
ঢাকা, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ – বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অরাজকতার মধ্যেই ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানো হয়েছে। জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গতকাল রবিবার (৪ জানুয়ারি) এই নতুন দাম ঘোষণা করা হয়, যা সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, সৌদি আরামকোর ঘোষিত জানুয়ারি মাসের সৌদি সিপি (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী এই সমন্বয় করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। নতুন হিসাবে প্রতি কেজি এলপিজির দাম (ভ্যাটসহ) ১০৮ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত মাসে ছিল ১০৪ টাকা ৪১ পয়সা। এছাড়া অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়েছে।
তবে বাজারে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলপিজির তীব্র সংকট চলছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। রাজধানীসহ সারাদেশে অনেক এলাকায় ১২ কেজি সিলিন্ডার ১৮০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে জানানো হয়, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও খুচরা বিক্রেতারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন। এ ব্যাপারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। বিইআরসি চেয়ারম্যানও স্বীকার করেছেন যে, নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না তারা। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) দাবি করেছে, আমদানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকটের কারণে বাজারে চাপ পড়েছে। তবে সরকারি হিসাবে আমদানি বেড়েছে এবং মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট গৃহস্থালির ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।