
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থেকে সান্তাহার পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চল রেলপথের ৭৭ কিলোমিটার এলাকা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শত শত ভাঙা স্লিপার, নড়বড়ে জোড়া এবং জনবল সংকটে ধীরগতিতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে আন্তঃনগরসহ ডজনখানেক ট্রেন। গত মাসে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এই রুটে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সরেজমিনে ও রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ীর মোবারকপুর থেকে সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত ৭৭ কিলোমিটার রেললাইনের শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে ভেতরের রড বের হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় রেললাইন আটকে রাখার ‘প্যান্ড্রল ক্লিপ’ নেই। নড়বড়ে জোড়ার কারণে ট্রেনের চাপে রেললাইন বিপজ্জনকভাবে ওঠানামা করে। বিশেষ করে বিরামপুর, হিলি, পাঁচবিবি, আক্কেলপুর ও তিলকপুর অংশে লাইনের বেহাল দশা চোখে পড়ার মতো।
ঝুঁকিপূর্ণ এই লাইনের কারণেই গত ১৮ মার্চ আদমদীঘির বাগবাড়ী এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে দুই শতাধিক যাত্রী আহত হন। এর মাত্র কয়েক দিন পর ২৩ মার্চ ফুলবাড়ী-বিরামপুর অংশে স্লিপার ভেঙে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার উপক্রম হয়েছিল। সে সময় এনামুল হক নামের এক কৃষকের উপস্থিত বুদ্ধিতে কলার মোচার লাল পাতা দেখিয়ে ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ থামিয়ে দেওয়ায় কয়েকশ যাত্রী নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান।
রেলপথের এই বেহাল দশার নেপথ্যে উঠে এসেছে জনবল সংকটের করুণ চিত্র। ৭৭ কিলোমিটার লাইন দেখভালের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য। বিশেষ করে প্রতিদিন সকালে লাইন চেক করার দায়িত্বে থাকা ১০ জন ‘কি-ম্যান’-এর পদই খালি। এছাড়া ট্রলিম্যান, নিরাপত্তাকর্মী ও হ্যামারম্যানের স্বল্পতার কারণে নিয়মিত তদারকি ও মেরামত কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী জানান, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাঁরা কাজ করছেন। তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথের স্থায়ী সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হলে ট্রেন চলাচলে শঙ্কা কেটে যাবে।”
তবে স্থানীয় সমাজকর্মীদের মতে, দরপত্র বা মেরামতের দীর্ঘসূত্রতা যে কোনো সময় আরও বড় কোনো প্রাণহানির কারণ হতে পারে। দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে নিরাপদ রেলযাত্রা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।