
ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে জব্দ হওয়া ইরানি পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘তুসকা’ এবং এর আরোহীদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং একটি ‘ক্রিমিনাল’ বা অপরাধমূলক কাজ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
ইরান সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জাহাজটিসহ এর নাবিক, ক্রু ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত মুক্তি না দিলে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তেহরান কঠোর পালটা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই উত্তেজনার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই ঘটনাকে একটি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো পর্যায়ের সক্ষমতা ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না।
এ ঘটনায় উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির অবনতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকে বহন করতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মূলত ওমান উপসাগরে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এই ঘটনার ফলে নতুন মোড় নিয়েছে।
এর আগে গত রোববার ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে ‘তুসকা’ নামক ওই জাহাজটির ওপর গুলি চালায় এবং পরবর্তীতে তা জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রকাশিত সামরিক ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, একটি মার্কিন গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার প্রথমে জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করে এবং পরে হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে মেরিন সেনারা জাহাজে নেমে নিয়ন্ত্রণ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপকে তাদের অবরোধ নীতির অংশ হিসেবে দাবি করলেও ইরান একে সরাসরি ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ে ঘটল, যখন পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। একদিকে ওয়াশিংটন যখন আলোচনার টেবিলে বসার কথা বলছে, অন্যদিকে সমুদ্রে ইরানি জাহাজ জব্দের ঘটনা তেহরানকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পালটা পাল্টি অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নৌ-পথগুলোতে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এখন দেখার বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ও ইরানের হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র জাহাজটি ফেরত দেয় কি না, নাকি এই ঘটনাটি একটি নতুন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
সূত্র: গালফ নিউজ।