
সৌদি আরব ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রিয়াদ। একই সঙ্গে তেহরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে সৌদি আরব বলেছে, উত্তেজনা অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর চরম মূল্য ইরানকেই দিতে হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ইরানের এমন বৈরী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিবৃতিতে সৌদি আরব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের জনগণ, ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
রিয়াদের ভাষ্য, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা সবার দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেসামরিক বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেছে সৌদি আরব। পেজেশকিয়ান সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
তবে সৌদি কর্মকর্তারা এই আশ্বাসকে ‘ফাঁপা বুলি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, ওই বক্তব্য দেওয়ার সময় এবং পরবর্তীতেও বিভিন্ন অজুহাতে ইরানের হামলা অব্যাহত ছিল।
অন্যদিকে তেহরান অভিযোগ করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অংশ নিতে সৌদি আরব নিজের ভূখণ্ড থেকে যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের উড্ডয়ন অনুমোদন দিয়েছে।
তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে রিয়াদ। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।